হানা মার্শম্যান ছিলেন ভারতে আগত একজন খ্রিষ্টান মিশনারি। জন শেফার্ড নামক একজন কৃষক ও তার স্ত্রী র্যাফেল ছিলেন হানার পিতামাতা। ঠাকুরদা জন ক্লার্ক উইল্টশায়ারের ক্রোকারটন গির্জার ধর্মযাজক ছিলেন। আট বছর বয়সে তার মাতৃবিয়োগ হয়। ১৭৯১ খ্রিঃ জোশুয়া মার্শম্যানের সঙ্গে হ্যানা শেফার্ডের বিয়ে হয়।
প্রায় অনুল্লেখিত তাঁর অধ্যায়। ইতিহাসে তিনি উপেক্ষিতা। অথচ উনিশ শতকের নারী শিক্ষা আন্দোলনে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হওয়া উচিত ছিল। উনিশ শতকের মাঝামাঝি বাংলা জুড়ে যে নারীশিক্ষার প্রচলন শুরু হয়েছিল এবং ১৮৪৯-এ বেথুন কলেজিয়েট স্কুল প্রতিষ্ঠার অনেক আগেই শ্রীরামপুরে ডেনিস কলোনিতে স্থানীয় মেয়েদের জন্যে স্কুল খুলেছিলেন হানা মার্শম্যান। অথচ অদ্ভূতভাবে প্রায় সকলেই তাঁকে ভুলে গেছেন। শ্রীরামপুর মিশন কলেজে তাঁর সামান্য কিছু ব্যবহৃত জিনিসপত্র, শ্রীরামপুর শহরে তাঁর বাড়ির ভগ্নস্তুপ ছাড়া হানা হারিয়ে গেছেন শ্রীরামপুরে আগত মিশনারীদের অর্থাৎ উইলিয়াম কেরী, ওয়ার্ড, জশুয়া মার্শম্যানদের বিপুল কার্যভারের আড়ালে অথবা ভারতীয় নারী শিক্ষা আন্দোলনের অন্যান্য মনীষীদের কাজের আড়ালে। হানা মার্শম্যান কেবলই পরিচিত হয়ে থেকেছেন মিসেস মার্শম্যান হিসেবে।

















Reviews
There are no reviews yet.