আজকে দেশের রাজনীতি বুঝতে হলে আরএসএস-এর ক্রিয়াকলাপের আলোচনা ছাড়া হতে পারে না, কারণ এই আরএসএস-ই কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে চালায়। তাঁরা যা বলেন, যা আসলে চান, সেটা বিশাল ব্যাপার। তার কিছু কিছু বিষয় নিয়ে এই বই।
প্রথমে অধ্যায়ে র সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এসেছে গোড়ার কথা। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আরএসএস-এর সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা।
এর পরে আলোচনা শুরু আরএসএস-এর নানা বক্তব্য নিয়ে। আরএসএস চায় এক দেশ, এক সংস্কৃতি, এক জাতি। সেটা হওয়াই কী ভালো? এই আলোচনা তৃতীয় অধ্যায়ে। এক জাতি হতে গেলে তো সকলের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য চাই। সেই বৈশিষ্ট্য কী হবে? আরএসএস চাইছে, সেই বৈশিষ্ট্য হোক ধর্ম। আরএসএস হিন্দু রাষ্ট্র চায়। সেই হিন্দু রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা চতুর্থ অধ্যায়ে । হিন্দু রাষ্ট্রের পতাকা ও ভাষা আলোচনা হয়েছে যথাক্রমে পঞ্চম ও ষষ্ট অধ্যায়ে ।
আরএসএস-এর বক্তব্য সেই হিন্দু রাষ্ট্র হবে একক, যুক্তরাষ্ট্রীয় নয়। তার লক্ষ্যে এখন থেকেই সারা দেশে একসাথে লোকসভা, বিধানসভা, পুরসভা, পঞ্চায়েত নির্বাচন করার কথা উঠছে। এই আলোচনা সপ্তম অধ্যায়ে । এই অধ্যায় পড়লে বোঝা যাবে যে আরএসএস আসলে এক স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র চায়। ভারতে স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে একবার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। জরুরি অবস্থার সময়ে তদানীন্তন আরএসএস-এর একদম শীর্ষ নেতৃত্ব জরুরি অবস্থাকেই সমর্থন করেছিল। সেই আলোচনা অষ্টম অধ্যায়ে ।
আরএসএস সবাইকে এক ছাঁচে ঢালতে চায় তাই অভিন্ন দেওয়ানি আইন। কিন্তু ভারতের মতো বহুজাতির দেশে তা করতে গেলে, কী অসুবিধা, কিভাবে তা আনা যাবে, তা নিয়ে আলোচনা নবম অধ্যায়ে । দেখানো হয়েছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সরকারই ভিন্ন আইন তৈরি করে চলেছে। আসলে পুরো প্রচারটা তোলা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের স্বার্থে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। একেবারে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন কিছু প্রচার চলছে যা সত্য নয়। এই ব্যাপারে আলোচনা দশম অধ্যায়ে । আরএসএস যে হিন্দু রাষ্ট্র চায়, তাতে মুসলিমদের নাগরিক অধিকার দিতে চায় না বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করতে চায়। তাঁদের নাগরিকত্ব থেকে বাদ দিতেই এনআরসি, সিএএ ইত্যাদি আইন। এই সমস্ত আলোচনা একাদশ অধ্যায়ে ।
আরএসএস শুধু মুসলমান বিরোধী নয়, হিন্দু হয়েও দলিতদেরও কোনো মর্যাদা নেই সেখানে। দ্বাদশ অধ্যায়ে সেই আলোচনা। দলিত বিরোধী এই অবস্থানের উৎস মনুস্মৃতি, যার মূল অবদান মানুষকে বিভিন্ন জাতে ভাগ করে, তাঁদের মধ্যে মিশ্রণ বন্ধ করে দেওয়া। এই মিশ্রণ বন্ধ করতে হলে নারীদের পায়েও বেড়ি পড়ানো আবশ্যিক। আরএসএস নারীর অধিকারের বিরোধী। কোনো নারীর আরএসএস-এর সদস্য হওয়ার অধিকার নেই। এই সব আলোচনা ত্রয়োদশ অধ্যায়ে ।
এইরকম মোট সতেরোটি অধ্যায় ও প্রতি অধ্যায়ের শেষে কম বেশি পঞ্চাশটি করে তথ্যসূত্র দেওয়া আছে।
















Reviews
There are no reviews yet.