পশ্চিমবঙ্গে আয়তন ও লোকসংখ্যা উভয় দিক দিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা একটি ছোটো জেলা। তবে অনেক নদ-নদী ও খাড়ি এবং অসংখ্য প্রাচীন বৃহৎ দিঘি এই জেলাকে দিয়েছে অন্যান্য জেলা থেকে স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ স্থান। নদীগুলির মধ্যে আত্রেয়ী, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন অবশ্যই পড়ে বৃহৎ নদীর পর্যায়ে। একসময় উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ নদী ছিল ত্রিস্রোতা বা তিস্তা যা তিনটি স্বতন্ত্র স্রোতে বা শাখা নদীতে বিভক্ত ছিল বলে তার তার নামকরণ হয়েছিল ত্রিস্রোতা।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে অনেকগুলি বৃহৎ প্রাচীন দিঘি। পশ্চিমবঙ্গের আর কোনজেলায় পাওয়া যাবে না এতগুলি দিঘির সমাবেশ। প্রাচীন কালে এবং মধ্যযুগে রাজা এবং সুলতানরা মনে করতেন দিঘি খনন হচ্ছে অন্যতম প্রধান এবং মহৎ জলকল্যাণকর। এই সমস্ত দিঘি ছাড়াও আরও অনেক মাঝারি ও ছোটো আকারের দিঘি, পুকুর, জলাশয় প্রভৃতি খনিত হয়েছে জেলার বিভিন্ন গ্রামে। এই দিঘি, পুকুর, জলাশয় ও নদীগুলি নিয়ে দীর্ঘকালব্যাপী সমীক্ষা করে বিস্তৃত বিবরণ সংকলন করেছেন শ্রী সূরজ দাশ। তিনি রচনা করেছেন জেলার জলসম্পদের বিস্তৃত ও বিশ্বস্ত বিবরণ। পুরোনো পুকুর ও দিঘিগুলিকে কেন্দ্র করে প্রচলিত হয়েছে নানা কিংবদন্তিমূলক কাহিনি। এইসব কাহিনি পুকুর ও দিঘিগুলির প্রাচীনত্বের দ্যোতক। এই কাহিনিগুলিও সংগ্রহ করে শ্রী দাশ স্থান দিয়েছেন তাঁর বিবরণে।
















Reviews
There are no reviews yet.