ভগৎ সিং একজন অনন্যসাধারণ স্বাধীনতা সংগ্রামী। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে উৎখাত করে সোভিয়েত রাশিয়ার মতো ‘সমাজতান্ত্রিক’ ভারত গড়তে চাওয়া একজন শহীদ বিপ্লবী । তিনি শোষণমুক্ত ভারত গড়তে চেয়েছিলেন, এবং সেই মুক্তি কেবলমাত্র সাম্রাজ্যবাদী শোষণের জোয়াল থেকে নয়, সার্বিক মুক্তি; মানুষের ওপর মানুষের যে-কোন ধরনের শোষণ থেকে মুক্তি।
সেন্ট্রাল অ্যাসেম্বলি হলে বোমা ছোঁড়ার অপরাধে তাঁর ও বটুকেশ্বর দত্তের যে বিচার প্রক্রিয়া চলেছিল সেখানে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে এ কথাই জানিয়েছিলেন। কেন আমি নাস্তিক এই রচনাটিতে সেই ভাবাদর্শই যেন বারবার উচ্চারিত হয়েছে।
লাহোর সেন্ট্রাল জেলে থাকাকালীন তাঁর এই রচনা। তিনি লিখেছেন, “ যে মানুষ প্রগতির পক্ষে, পুরনো বিশ্বাসের প্রত্যেকটি উপাদানকে তাঁকে সমালোচনা, সন্দেহ ও অবিশ্বাস করতে হয়। প্রচলিত বিশ্বাসের প্রত্যেকটি উপাদানকে ধরে ধরে পরীক্ষা করতে হয় ” । তিনি এখানে আরও লিখেছেন, “প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করছেন এমন কোন পরম সত্তার অস্তিত্বহীনতা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত” ।
এছাড়াও আরও চারটি রচনা তিনি করেছিলেন যেগুলি ব্রিটিশ সরকার জেলের বাইরে নিয়ে যেতে দেয়নি। তাতে কী লেখা ছিল কেউ জানে না । জেলবন্দী সন্তানের সাথে দেখা করার সময়ে কিসাণ সিং সেখানে গেলে তাঁর হাত দিয়ে গোপনে এই লেখাটি বাইরে চলে আসে।
ভগৎ সিং-কে বিকৃত জাতীয়তাবাদের পুরোধা বলে জাহির করার প্রচেষ্টা সংঘ পরিবার অনেকদিন ধরেই চালাচ্ছে। “কেন আমি নাস্তিক” এই রচনাটি সেই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদও বটে।
















Reviews
There are no reviews yet.