“সমগ্র? সে তো শেষবেলায় হয়!
যখন দীর্ঘ পথের শেষে অন্তিম বিশ্রামের কাল আসে, তখনই শেষ বাঁধাছাঁদাগুলি হয়ে থাকে— অনেক ক্ষেত্রে মরণোত্তরও— সাহিত্যক্ষেত্রে রেওয়াজ এমনই। এখনই কেন ‘সমগ্র’, সবে তো বিশ বছর, সবে তো মাঝপথ!
প্রশ্নগুলি এমনই উঠতে শুরু করেছে, কানে আসে। তাই গ্রন্থ-শুরুয়াতে এই ছোট্ট কৈফিয়ত।
কথাটা হচ্ছে এই: অন্তহীন কাল-সমুদ্রে বেলার মাপ কে রাখে? কার কখন ‘শেষবেলা’ সে কি কেউ জানে? ‘কালীদহে কখন যে ঝড়/ কমলের নাল ভাঙে…’! অপিচ, কালের বিচারে সমস্ত নশ্বর মানবের সৃষ্টি-যাত্রার খেয়াপথই বস্তুত অতি-সীমিত, সেখানে বিশ বছরও যা, পঞ্চাশও তা-ই— বিন্দুবৎ! কে বলবে কোনটা মাঝপথ আর কোনটা বন্দরের কাছে চলে-আসা!
তা ছাড়া, আর-পাঁচটা মানুষের সঙ্গে লেখকের ‘অন্তিমকাল’ব্যাপারটার একটু ফারাক তো আছেই; শিবরাম বলেছেন, বলার কথাগুলি ফুরোলেই লেখকের মৃত্যু, তারপর যথাকালে না থামলে জীবদ্দশাতেই তিনি জীবন্মৃত। হ্যাঁ, সে-আত্মবিচার বাংলা বাজারের লেখকবৃন্দ অধিকাংশ সময়ই করে উঠতে পারেন না বটে— আমৃত্যু অতিপ্রজননই অধিকাংশের বিধিলিপি— কিন্তু যদি হাজারে একজনও তেমনটা অনুভব করেন কখনও, কোনওদিন? তাঁর জন্য কি থাকবে না বাঁধা গতের বাইরে কোনও গড্ডল-অসিদ্ধ নিপাতন?… …”












Reviews
There are no reviews yet.