একজন একত্রিশ-বত্রিশ বছরের যুবক, সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২), চলচ্চিত্রের পর্দায় এক গ্রন্থিতে বেঁধে দিতে পেরেছিলেন জীবন আর সৃজনকে, যা গত শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বচলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ আত্ম-আবিষ্কারগুলির একটি।
তাঁর হাতে চলচ্চিত্রের ভাষা হয়ে উঠল এক শাঁসে ভরা শৈল্পিক বুনন। দৃশ্যের পর দৃশ্যে এক নিবিড় ঘনবদ্ধতা সত্যজিৎকে বিশ্বের মহত্তম স্রষ্টাদের একজন করে তুলেছে। এ যেন তিল তিল করে এক ইতিহাস-সচেতন চিত্রকরের সুচিন্তিত নির্মাণ, যা চলচ্চিত্রকে সেই স্তরে উত্তীর্ণ করে যেখানে মিশে থাকে রবীন্দ্রনাথ কথিত ‘ইতিহাসের নিত্যসত্য’ আর ‘সাহিত্যের চিরসত্য’।
রঞ্জনরশ্মির মতো পর্যবেক্ষণশক্তি দিয়ে গভীর মমতায় (যেমন, ‘কাপুরুষ’ ছবির চিত্রনাট্যের মার্জিনে লিখেছিলেন ‘করুণা জল খেয়েছে, ওর ঠোঁটে কি জল লেগে থাকবে?’ চরিত্রের নানা দিককে এক বহুস্তর সাংগীতিক আঙ্গিকে ধরা তাঁকে বিশিষ্টতা দিয়েছে। আঁদ্রে বাজ্যাঁ, কুরোসাওয়া, পাজোলিনি, মার্টিন স্করসেজে থেকে ওয়েস অ্যান্ডারসন ও ক্রিস্টোফার নোলান তাঁর গুণগ্রাহী। সারা পৃথিবীর দীক্ষিত দর্শক জানেন তাঁর চলচ্চিত্রে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খুঁটিনাটিও কীভাবে প্রাণ পেয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্বসাহিত্য সম্পর্কে আগ্রহের পাশাপাশি, চলচ্চিত্র নিয়ে চিন্ময় গুহ-র উৎসাহ কম নয়। তিনি যেমন বার্গম্যান, আন্তোনিওনি, এরিক রোমার ও মৃণাল সেনকে নিয়ে লিখেছেন তেমনই গভীর ভালবাসা ও নিষ্ঠায় আঠারো-উনিশ বছর বয়স থেকে সত্যজিৎ রায়কে বোঝার চেষ্টা করেছেন। সেই দীর্ঘ সত্যজিৎ-চর্চার অপূর্ব ফসল এই বই।


















– Tapas M (verified owner)
Rated without a comment