এই পুস্তিকা সম্বন্ধে কিছু কথা :-
মোদী সরকার কীভাবে একটা জাতীয় সম্পদ বৃহৎ পুঁজির হাতে তুলে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে তা উন্মোচন করাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।
এই প্রচারপুস্তিকাটির মাধ্যমে এই বিলের ধ্বংসাত্মক চরিত্রটা উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এর শর্তহীন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে । এই বিলটা কোনো ছোটখাটো রদবদলের বিষয় বা কমিটির পর্যালোচনার বিষয় হতে পারে না।
বিলটা আসলে কী তা বুঝতে গেলে, ” কনটেন্ট অ্যান্ড ক্যারেজ” (content and carriage) এবং “কস্ট-রিফ্লেক্টিভট্যারিফ” (cost-reflective tariffs) -এইরকম সব আপাত-কারিগরি পরিভাষার ধোঁয়াশা ভেদ করে দেখতে হবে। সেই কাজে এই বই অপরিহার্য।
আসলে, দেশি ও বিদেশি বড় বড় কর্পোরেট সংস্থার হাতে সমগ্র বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে তুলে দেওয়ার এক নির্লজ্জ ও বেপরোয়া প্রচেষ্টা ছাড়া এই বিল আর কিছুই নয়।
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পুনর্গঠনই হলো এই বিলের মূল কেন্দ্রবিন্দু । এই সেই বিল, যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে সরকারি দায়বদ্ধতার আওতা থেকে সরিয়ে কর্পোরেট মুনাফা অর্জনের হাতিয়ারে পরিণত করার নির্ণায়ক পরিবর্তনটা করা হয়েছে।
স্মার্ট মিটার চালুর এই যে মরিয়া প্রচেষ্টা , তা মূলত এই বিলের একটা বড় অংশের বাস্তবায়নের পরিকল্পনারই ফল। কারণ এই কাজে স্মার্ট মিটার একটা বাধ্যতামূলক কারিগরি সরঞ্জাম।এই বইয়ে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, মোদী সরকারের নয়া-উদারবাদী ও কর্পোরেট-ঘেঁষা নীতির বিরুদ্ধে চলমান বৃহত্তর সংগ্রামেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়ার জনগণের যে অধিকার, তা রক্ষা করা, ঘনিষ্ঠ কর্পোরেট গোষ্ঠীর কবল থেকে ভারতের জাতীয় সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কর্পোরেট মুনাফার চেয়ে জনকল্যাণকে যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত-তা জোরালো ভাবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।
এই প্রচারপুস্তিকাটি সেই সংগ্রামে রসদ জোগাবে।









– Dibyendu Bhattacharya (verified owner)
Rated 4 out of 5 stars