২০১৯-এ অধ্যাপক রোমিলা থাপার দিল্লিতে দুটি স্মারকবক্তৃতা দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বক্তৃতাটির প্রায় সমসময়ে মূলত শাহিনবাগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে সিএএ-এনআরসি-বিরোধী প্রতিবাদ-প্রদর্শন একটা জাতীয় আন্দোলনের চেহারা পায়। সেই প্রতিবাদী আবহে বক্তব্যগুলি অতীব সময়ানুগ হয়ে ওঠে। ২০২০-র মার্চের পর শাহিনবাগ আন্দোলন স্তিমিত হয়ে আসে।
ওই বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা কিন্তু অটুট রয়ে যায়। স্বাভাবিক, কারণ কোনও রাষ্ট্রসমর্থিত ভাষ্য যদি দেশে বা সমাজে একপাথুরে স্বর হয়ে উঠতে চায়, বিরুদ্ধতার একটা স্বরও অনিবার্য হয়ে ওঠে ।এই বইয়ে রোমিলা থাপার দেখিয়েছেন বিরুদ্ধ স্বরের উদ্ভাস ও তাকে রুদ্ধ করতে চাওয়ার অনুশীলন-দুটির কোনোটিই এদেশে নতুন কিছু নয়।
তাঁর ভাষায়, “প্রত্যেক আধুনিক সমাজে সবসময় নাগরিকদের বিরুদ্ধতার অধিকার দ্ব্যর্থহীনভাবে বাস্বাধীনতার অধিকারেরই অংশ হওয়া উচিত। এই অধিকার বিতর্কিত বটে, তবু বিভিন্ন সমাজের ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
এ বিষয়ে আমাদের ধারণা যা-ই হোক না কেন, অন্য যে কোনও সমাজের মতোই ভারতীয় সমাজেও নিটোল ঐক্য ও সম্প্রীতির সমাহার ঘটেনি। অসহিষ্ণুতা ও হিংসার ইতিহাস আমাদের সমাজেও ছিল, ছিল চিন্তার সংঘর্ষও। বহু বিরুদ্ধস্বরের অস্তিত্ব এই সমাজেই ছিল। আমরা বিরুদ্ধস্বরকে আজকে যতটুকু স্বীকার করতে রাজি, অতীতে তার তুলনায় ঢের বেশি ব্যাপক ছিল তার উচ্চারণ”।
বইটিকে ঘিরে রোমিলা থাপারের একগুচ্ছ সাক্ষাৎকার যুক্ত হয়ে এই পরিবর্ধিত সংস্করণটি প্রকাশিত হয়েছে; উল্লিখিত বিষয়গুলিকে আরও বিশদে বুঝতে তা সাহায্য করবে।













Reviews
There are no reviews yet.