বিশিষ্ট কথাকার শরদিন্দু সাহা-র অসামান্য উপন্যাস ‘দেশের গর্ভে স্বদেশ’।
পৃথিবী জুড়ে যে মরণযজ্ঞ চলছে শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে তারই অনিবার্য ফল হলো যুদ্ধ মহামারি দুর্ভিক্ষ পরাধীনতার জ্বালা-যন্ত্রণা ও কট্টরপন্থী মানুষদের ধর্মান্ধতা, ভাষা সংস্কৃতির উপর আক্রমণ, সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে মারার মতো নির্বিচার অত্যাচার। মানুষের ভিন্ন পরিচয়গুলোকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কৌশল আসলে এক শ্রেণির মানুষের আধিপত্য বিস্তার ছাড়া আর কিছু নয়। যে কোনো শান্তিকামী শুভবুদ্ধি মানুষ এই অশুভশক্তিকে পরাস্ত করে এক স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করার জন্য জীবন বাজি রাখতেও কুণ্ঠিত হন না। এই আন্দোলন সংগ্রামে যে অস্বস্তিকর ও অস্বাস্থ্যকর নতুন এক বাতাবরণ তৈরি হয়, কোটি কোটি মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। এই অবস্থার সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক পরিবর্তন কী ও কেমন, নেতৃস্থানীয় মানুষদের চিন্তা ও মননে একরকম ভাবে প্রতিভাত হয় কিন্তু আম মানুষদের চিন্তা ও চেতনায় আর এক বাস্তবের প্রতিফলন ঘটে, তা হয় বড় নির্মম ও নিষ্ঠুর, সময়ের ঘাত প্রতিঘাতে অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, বিলিন হতেও সময় নেয় না। মানুষের কান্না ও অসহায়ত্বের প্রতিচ্ছবি হয় ভিন্ন গোত্রের, ভিন্ন অনুভবের। আর তা যদি প্রকাশ পায় নিজস্ব ভাষায় ও আচরণে তা হয় আরও জীবন্ত ও প্রাণবন্ত। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষার এই উপন্যাসের পরতে পরতে রয়েছে দেশকালের আয়নায় প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির চার দশকের অখণ্ড ও খণ্ডিত বাংলার টালমাটাল চালচিত্র। আড়াই বছরের পরিশ্রম ও নিষ্ঠায় লেখক উপাদান সংগ্রহে ও অভিজ্ঞতার আলোকে সৃষ্টিতে আত্মমগ্ন হয়েছেন, রচনা করেছেন উপমহাদেশে ঘটে চলা মর্মন্তুদ কাহিনী, যা সময়েরই অন্তর্লীন দলিল হয়ে রয়ে যাবে।








Reviews
There are no reviews yet.