৬ই ডিসেম্বর ১৯০৭। চাংড়িপোতা রেলওয়ে স্টেশন। লুট হয়ে গেল রেলের খাজানা। মাউজার পিস্তল কেনার জন্য স্বদেশিরা ঠিক কত টাকা সেদিন রেলের সিন্দুক ভেঙে পেয়েছিলেন তা নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও, ডাকাতির ঘটনাটি যে ঘটেছিল সেটি নিয়ে কোনো মতানৈক্য নেই। স্বয়ং বাঘাযতীন ছিলেন এই ঘটনার নেপথ্যে, এরকমটা বললেও অত্যুক্তি করা হয় না মোটেই।
বলা বাহুল্য, ওই ঘটনার অভিঘাত ছিল সুদূরপ্রসারী। এরপরই সারা বাংলা তথা দেশজুড়ে শুরু হয়ে যায় স্বদেশি ‘ডাকাত’দের দৌরাত্ম্য। দিশেহারা বৃটিশ শাসক যত বেশি দমননীতি প্রয়োগ করতে শুরু করল, বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকল তত বেশি করে। গঠিত হল একের পর এক গুপ্ত সমিতি। যা হয়ে উঠল সশস্ত্র সংগ্রামের আঁতুড়ঘর। অনেক গবেষকের মতে এটিই ছিল ভারতের প্রথম রাজনৈতিক ডাকাতি। এই ঘটনার বহু বছর পরে (১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল) ঘটে যাওয়া চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ইতিহাসের পাতায় রক্তিম অক্ষরে লেখা থাকলেও, তার ভিত্তিপ্রস্তর গাঁথা হয়েছিল যে দিনটিতে তা ইতিহাসে চরম অবহেলিত। হারিয়ে যাওয়া সেই শিলালিপিরই আজ পুনর্পাঠ, এই কিশোর উপাখ্যানে।














Reviews
There are no reviews yet.