সেকালের পরশুরাম কুঠার হাতে বেরিয়েছিলেন বিশ্বসংসারকে নিঃক্ষত্রিয় করার লক্ষ্য নিয়ে। কলিযুগের পরশুরামের (রাজশেখর বসু, ১৮৮০ – ১৯৬০) হাতে কুঠারের বদলে কলম ছিল; তাঁর লক্ষ্যও কিছুটা ভিন্ন – তিনি জাত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে হাসিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। তবে নিছক হাসি নয়, হাস্যরসে ডুবানো কলমে তিনি বিদ্ধ করেছেন সমাজকে। তাঁর রচনার আবেদন কাল-উত্তীর্ণ।
তাঁর পরিবেশিত হাস্যরসে মজেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। পরশুরামের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘গড্ডলিকা’ পড়ে অভিভূত রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, “মানুষের সুবুদ্ধি বা দুর্বুদ্ধিকে লেখক তাঁহার রচনায় আঘাত করিয়াছেন কিনা আমার নজরে পড়ে নাই। আমি দেখিলাম তিনি মূর্তির পর পর মূর্তি গড়িয়া তুলিয়াছেন। এমন করিয়া গড়িয়াছেন যে, মনে হইল ইহাদিগকে চিরকাল জানি।”
তবে কেবলমাত্র রবীন্দ্রনাথ নন, পরশুরামের রচনার গুণমুগ্ধ পাঠক তালিকায় কে ছিলেন না! আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রসরাজ অমৃতলাল বসু, যদুনাথ সরকার, প্রমথ চৌধুরি, সৈয়দ মুজতবা আলি, আরও অনেকে। সৈয়দ মুজতবা আলি বলেছিলেন যে, পরশুরামের রচনার পান্ডুলিপি যদি হারিয়েও যায় তাতে কোনো অসুবিধা নেই, তিনি স্মৃতি থেকে সবটা বলে দিতে পারবেন।
‘কজ্জলী’ পরশুরামের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ। প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৩৩৫ বঙ্গাব্দ। এই গল্পগ্রন্থে যে গল্পগুলি আছে, সেগুলি হল (১) বিরিঞ্চিবাবা, (২) জাবালি, (৩) দক্ষিণরায়, (৪) স্বয়ম্বরা, (৫) কচি-সংসদ ও (৬) উলটপুরাণ । প্রতিটি গল্পই এখনকার সময়েও সমান প্রাসঙ্গিক এবং বারবার পড়া যায়।










Reviews
There are no reviews yet.