“উৎপাদনশক্তির কীরূপ বিকাশ হইয়াছে, তাহার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখিয়াই গড়িয়া উঠে উৎপাদন সম্পর্ক। কিন্তু এই সামঞ্জস্য বেশিদিন থাকে না। যতই উৎপাদনশক্তির বিকাশ হয় ততই উৎপাদন সম্পর্কের সঙ্গে উহার বিরোধ বাধে। একটা সময় আসে যখন উৎপাদন সম্পর্ক উৎপাদনশক্তির বিকাশের পথে বাধা জন্মায়। ইহাই সমাজবিপ্লবের অবস্থা।
তখন সমাজে যে-শ্রেণি পরিবর্তন-বিরোধী এবং যে-শ্রেণি পরিবর্তন-প্রয়াসী তাহাদের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। যে সময়ের অবস্থায়, যাহারা পরিবর্তন চায় তাহারাই বৈপ্লবিক শ্রেণি । সামন্ততন্ত্রের শেষ দিকটায় সদ্যোজাত বুর্জোয়া শ্রেণিই ছিল বৈপ্লবিক, ইহারাই সামন্ততন্ত্রের সমাজকাঠামো ভাঙিয়া দিয়া পুঁজিতন্ত্রের জন্ম দেয়।
আবার আমাদের চোখের সামনেই দেখিতেছি- পুঁজিতন্ত্রে উৎপাদনশক্তির এত বড়ো বিরাট পরিবর্তন হয়, এবং এত বেশি বিকাশ হয় যে পুঁজিতন্ত্রের কাঠামো ইহাকে সামলাইতে পারে না; নতুন সমাজব্যবস্থার প্রয়োজন হইয়া পড়ে। কিন্তু পুরাতন উৎপাদন-সম্পর্কে বাধা জন্মায়।
এইরকম সমাজ-বিপ্লবের অবস্থায় সমাজে বৈপ্লবিক শ্রেণি সর্বহারা শ্রমিক। নতুন সমাজের অর্থাৎ সমাজতন্ত্রের জন্ম দেয় সর্বহারা শ্রমিকের বিপ্লব।……
অতএব, আমরা পরিষ্কারই দেখিলাম- উৎপাদনশক্তি এবং উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে যে বিরোধ বাধে, তাহা প্রকৃতপক্ষে শ্রেণিসংগ্রামেরই প্রকাশ। ইতিহাসের ধারায় এবং সমাজের বিকাশের পথে সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে শ্রেণিসংগ্রাম।
শ্রেণিসংগ্রামের তত্ত্বই সমাজের বিকাশের সূত্র ”।
এই সূত্রটি ধরেই সমাজের বিভিন্ন রুপগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এই বইয়ে সহজ ভাষায়।









Reviews
There are no reviews yet.