বর্তমান সময়কালে সমাজজীবন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন। দেশ, সমাজ ও জনমানসকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে শোষণ শাসনকে অবিচ্ছিন্ন রাখার উদ্দেশ্যে। এমতাবস্থায় জাত-পাত ধর্মের লড়াই প্রাধন্য পাবে, না রুটি-রুজির লড়াই প্রধান স্থান অধিকার করবে এই প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁরা মেহনতী মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকে সংগঠিত করছেন তাঁদের মনেও দ্বিধা-দ্বন্দু। তাঁরা সঠিক পথের দিশা খুঁজছেন। এই দ্বিধা ও দ্বন্দ্বের নিরসনের জন্য জরুরী আমাদের দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মনীষীদের জীবন যাপন ও ভাবনাকে অধ্যয়ন।
প্রয়োজন এমন একজনের জীবন আদর্শের সাথে পরিচিত হওয়া যিনি অনায়াসে বলতেন ” ভাগো নেহি, দুনিয়াকো বদল ডালো ” (পালিও না দুনিয়াকে বদলাও)। যিনি মানুষের মুক্তির খোঁজে সনাতনী হিন্দু ধর্ম থেকে হয়েছেন ‘আর্যসমাজী’, ‘আর্যসমাজী’ ভাবনা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মের পাদদেশে। আবার সেখানেও পূর্ণাঙ্গ উত্তর না মেলায় উত্তর খুঁজেছেন মার্কসবাদী ভাবনা ও প্রয়োগে।
তিনি একজন ভাষাবিদ এবং সাহিত্যিক, একজন ধর্মজ্ঞানী ও অনাধ্যাত্মবাদী, একজন রাজনীতিবিদ এবং নৃতাত্বিক, সমাজবিজ্ঞানী। মেহনতী মানুষের মুক্তির সন্ধানে ছুটে গেছেন সমভূমি থেকে পর্বত-গুহায়, জনপদ থেকে সাগরের বেলাভূমিতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন অঞ্চলে। দেশের বাইরে বিদেশে যথা তিব্বত, সিংহল, রাশিয়া, চীন সহ বিভিন্ন দেশে। সংগ্রহ করেছেন প্রচুর দুষ্প্রাপ্য পুঁথি ও দলিল (সংরক্ষিত আছে পাটনা মিউজিয়ামে)।
তিনি নিভৃত কারাজীবনকে বেছে নিয়েছেন শিক্ষার সোপান হিসাবে, রচনা করেছেন প্রচুর গ্রন্থ। তাঁর সৃষ্টির শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছেন দেশবাসীকে । প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী লাভ না করেও শিক্ষা দিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ভারত গড়ার ভাবনা, শিক্ষা, ভাষা সমস্যা, মার্কসবাদের মূল তত্ত্ব দ্বন্দুমূলক বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ, বিশ্বের মনীষীদের জীবনী গ্রন্থ, উপন্যাস তুলে দিয়েছেন দেশবাসীর হাতে। বিভিন্ন ধর্ম অনুশীলন, ধর্ম শিক্ষা গ্রহণ করার পর স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন “মার্কসবাদ মানব মুক্তির একমাত্র পথ”। তদানীন্তন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন, কখনও কখনও মতবিরোধ সত্ত্বেও কমিউনিস্ট হিসাবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রাহুলজীর বিশাল সংগ্রামী জীবন ও তাঁর কাজই এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু ।










Reviews
There are no reviews yet.